Loading

চন্দ্রমল্লিকার মাংস কৃষ্টি করের আঁকা ও কবিতা

প্রতিটি সংখ্যা যেমন নিরন্তর, তেমন এক হাঁড়ি ভাতের হৃদয়ে অবিস্মৃত ধানক্ষেত নিয়ে

প্রতিটি চাল একাকীত্বে চলে যায়।

অতটুকু পাথরে সুগন্ধ, ঝাঁজ, কৌমার্য দিয়ে ঘষলে আতপ্ত মাছের ঝোলে চন্দনের গন্ধ হয়।

বিধবা চালে চন্দ্রমল্লিকার মাংসের।

প্রত্নশিলার বুকে নগরী গড়ে উঠতে গিয়ে হয়েছে একফালি রান্নাঘরের মেঝে। মা বললেন শিব গড়তে খোকা এসেছে। বাবা নোড়া এগিয়ে দিয়ে কেবলই বলেন শিব! শিব!

আমার মায়ের বুকে পাথর পাথর গন্ধ। তার ওপর দিয়ে হাঁটতে গেছি যখন আমার বয়স

ছুঁল একসাজি ফুল।

তারপর থেমে গেছি, ভূগোল ক্লাসে পাললিক শিলার নাম বলতে পারিনি, বালির নৌকো দেখবো বলে পালিয়েছি স্কুল, রান্না শিখিনি।

পাশাপাশি: পুরুষ, উনুন।

আঁচে আঁচে বয়স পেরোলো।

আজকাল তোমার কাছে যাই

অফিসফেরত,

দুপুরে ঘুমের আগে দু'একটা লবঙ্গের মত।

~

চাঁদের ওপর হাইওয়ে, তার দুপাশে চুম্বনের পরের রক্তকরবী ফুটে আছে। স্ট্র্যা টোস্ফিয়ারে জ্বিনপরীর মত ভাসে বাঁশির সুর, আর অন্ত্যাস্থ মালকোষে গুলাম নেমে এসে অবরোধ গড়ে ওঠে আঙুলে আঙুল জড়িয়ে।

আমাকে তুমি পর্যটনমুখী করে তোলো তোমার ব্যরক্তিগত মানচিত্রে। পরিযায়ী পাখিরা আটলান্টিস থেকে জন্ম নিয়ে এসে বসে তোমারই সুরের দাঁড়ে। একের পর এক সাত সমুদ্র, তেরো নদী ও চোখের পলকে ডুবে যায় বীর্যশুল্কা নারী।

সেতার থেকে যা বিঁধে যায়, ধনুর্বান থেকেও বিঁধে যায় সেই। বহুকাল পাখি আর নেই, পাখির স্থাপত্য পোড়ামাটি, স্বল্প ভঙ্গুর। বহুকাল চোখের ভিতর রাখা আছে খনিজ সূর্য। সপ্তাশ্বরথে সাত রঙ, সরগম আমার দৃষ্টি প্রতিসৃত করে সহস্রারাপদ্ম গান্ধর্বী অভিমুখে।

প্রতিটি আমবাগানের কেন্দ্রে থাকে এক শৈশব কালবৈশাখী, হালকা নীল কাকের ডিম, সাবেকী মীনমুখী রতনচূড়।

ও আমার মধুমতী মেঘ, সিঁদুরমথিত আকাশ, শঙ্খশব্দস্বর্গ;

সন্ধে দেবার অভ্যেিস, ল্যা টিন সাহিত্য,

বিচ্ছেদ নিও, হারিয়ে যেও না।

~

সমুদ্রে বৃষ্টি হয়ে আমি ডুবে যাই স্রোতে

দুকানে কুলকুল করে গান ঢুকতে থাকে

আর কালো আকাশে ঝড়ের আগের সাদা

স্পর্ধার ফুটবলের মতো সূর্য

মেঘেরা লাল হয়ে ফেরে বালিকা বিদ্যালয় থেকে

অথৈ গোড়ালি জলে নুপূর খুলে যাবার মত।

~

আমাদের গ্রামে যুদ্ধ শেষ হয়েছে অনেকবছর। চার্চের বারান্দায় সন্ন্যােসিনী যত্ন করেছেন বেগুনি রঙের ফুল। ভিনগ্রহী বাউল এসে সম্মোহনে নিয়ে গেছে যুদ্ধতৎপরতা। বদলে আমাদের পুরুষদের ভুলিয়ে দিয়ে গেছে নারী ও বাড়ির অবশ্রুত তফাত।

বাড়ির মধ্যে থাকে সিন্দুক। সিন্দুকের মধ্যে থাকে গাছতলা। জাম, জামরুল, আর গোলাপী অবসন্ন পাতা। পাতলা সুতির আলোয়ান, তার জ্বালিকা দিয়ে আলো চলাচল করে, যেন নদীর চর লাগোয়া চিকিরমিকির মাছ।

প্রকান্ড ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে তুমি আমায় কী বলে যেন ডাকলে, সেই মস্ত যন্ত্র হয়ে গেল কালো দীঘল চোখের এক ছটফটে ছাগলছানা। আমি জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে গিয়ে দেখতে পেলাম গোপন পুকুর, হিব্রু বর্ণমালার মত গয়না রোদ পড়ে আছে।

এক একদিন অসময়ে ঘুম থেকে উঠে আড়ামোড়ায় ভেঙে দিই সংসার। প্রতিদিন তোমায় বৈরাগ্যড দিয়েছি যত, তত তুমি ফিরে এসে ডাইনী বলে কোলে মাথা রেখেছো।

প্রত্নবালিকা বাসে করে কলেজ যায়, ছেলেদের ছবি দেখে, টেলিফোন ধরেনা।

~

সবার স্নানের গন্ধ আর মায়ের স্নানের গন্ধে যেটুকু তফাত সেটাকে স্নেহ বলে।

আর ব্যা গ খুলতে মা খুঁজে পায় পুরোনো হয়ে যাওয়া সিগারেটের প্যা কেট দিয়ে বানানো ফুল, নৌকো, বাক্স। কে জানে তাতে রাখবার কথাই বা কী ছিল।

প্রতিটি স্পর্শে ছোট ছোট সিন্দুক আছে। তবু একদিন আমরা একটা পিয়ানো কাঁধে নিয়ে চলে যাবো দেশ ছেড়ে, সুফি ও বাউল ছেড়ে, চুলের ভিতর পলাশক্ষেত তছনছ করে দিয়ে।

দুপাশে বাবা ও মা,

আরো কাছে এলে

পুরুষ ও নারী

তবু আমরা আর কোনদিনই ফিরে আসবো না।

Created By
কৃষ্টি কর
Appreciate

Credits:

কৃষ্টি কর

Report Abuse

If you feel that this video content violates the Adobe Terms of Use, you may report this content by filling out this quick form.

To report a copyright violation, please follow the DMCA section in the Terms of Use.