Loading

digiopia the | digital | creativity

বর্তমান বিশ্বের চরম প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে চাইলে ব্র্যান্ডিং হতে পারে আপনার অন্যতম হাতিয়ার। সঠিক এবং সুপরিকল্পিত ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার পণ্যের ক্রেতা আকৃষ্ট করতে পারবেন এবং ব্র্যান্ড ইমেজ বজায় রাখতে পারলে তাকে সন্তুষ্ট করে আপনার নিয়মিত কাস্টমার বানাতে পারবেন খুব সহজেই। ব্র্যান্ডিং সঠিকভাবে করতে পারলে পণ্য বিক্রি করাটা খুব সহজ হয়ে যায়, কারণ কাস্টোমার আপনার সেবা ও মানের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। যেকোন ধরণের বিজনেস এর জন্য ব্র্যান্ডিংটা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। একমাত্র ব্রান্ডিংই পারে কম বিক্রি করেও পর্যাপ্ত মুনাফা করার ব্যবস্থা করতে। কারণ এক্ষেত্রে আপনার কাস্টমার আপনার সেবা ও মানকে মূল্যায়ন করছেন। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড রয়েছে, এবং আমরা নিজেরাই এইসব ব্র্যান্ড এর কাছ থেকে পণ্য কিনতে আকৃষ্ট হয় খুব সহজেই। কিছু ব্র্যান্ড রয়েছে যারা খুব বিলাসি পণ্য বিক্রি করে।যেমনঃ ফেরারি (গাড়ির কোম্পানি), তাদের পণ্য বেশীরভাগ মানুষেরই কেনার সামর্থ্য নেই, তবুও সবাই স্বপ্ন দেখে আর ভাবে, ইসস! আমার যদি একটা ফেরারি গাড়ি থাকতো। এটাই হচ্ছে সফল ব্র্যান্ডিং এর বৈশিষ্ট্য, কাস্টমার আপনার পণ্যের প্রতি মোহিত থাকবে এবং এটা ব্র্যান্ডিং ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। ব্র্যান্ডিং হচ্ছে কাস্টমারের কাছে বিশেষ কিছু।

ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং এর পার্থক্যঃ

ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং পুরোপুরি এক না হলেও একটির সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত। ব্র্যান্ডিং কে আপনি একটি ভিন্ন মাত্রার মার্কেটিং প্ল্যান বলতে পারেন। মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কাস্টোমারকে পুশ/চাপ প্রয়োগ করা হয় প্রোডাক্ট কিনতে। এক্ষেত্রে কোম্পানি তার টার্গেট কাস্টোমারকে পণ্য কেনার জন্য উদ্বুদ্ধ করার জন্য বলে, আমরা দিচ্ছি সেরা পণ্যটি, আমাদের পণ্য অন্য সকল পণ্যের থেকে ভাল ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কোন ব্র্যান্ড কখনই এভাবে তার ব্র্যান্ডিং করবে না। ব্র্যান্ড তার কাস্টমারকে পুশ না করে পুল করে। প্রলুব্ধ না করে তার নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে। ব্র্যান্ড তার কাস্টমারের সামনে তার তুলে ধরবে যে সে কি, কি দিচ্ছে এবং তার বৈশিষ্ট্য কি। এর ফলে তার নিজেকে কাস্টমারের কাছে গিয়ে তার পণ্য কিনতে বলতে হয় না, কাস্টোমারই আকৃষ্ট হয়ে ব্র্যান্ড এর কাছে আসে তার পণ্য কিনতে।

সুতরাং ভেবে দেখুন, আপনি ব্র্যান্ডিং করবেন, নাকি গতানুগতিক মার্কেটিং করে পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করবেন।

কিভাবে ব্র্যান্ডিং করবেনঃ

যদি আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে আপনি ব্র্যান্ডিং করবেন আপনার কোম্পানির বা অনলাইন শপ এর, তাহলে এখন আপনার জানতে হবে ব্র্যান্ডিং কিভাবে করতে হবে, কি কি জিনিস ব্র্যান্ডিং করার জন্য প্রয়োজনীয়। আমি এখানে অনলাইন শপ এর ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে আলোচনা করব।

ব্র্যান্ডিং এর জন্য কিছু বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যদি আপনি আপনার অনলাইন শপকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে দাড় করাতে চান।

—প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কিসের বিজনেস করবেন, কি বিক্রি করবেন। আপনি কি একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন? নাকি সবধরনের পণ্য বিক্রি করবেন? যদি আপনি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করতে চান তাহলে সেটার ব্র্যান্ডিং এক রকম হবে, আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করতে চাইলে সেটার ব্র্যান্ডিং অন্যরকম হবে। ই-কমারস কোম্পানির ব্র্যান্ডিং দুইভাবে করা যেতে পারে। ১, আপনি যে পণ্য বিক্রি করছেন সেটার ব্র্যান্ডিং করুন অথবা ২, আপনার অনলাইন শপ এর ব্রান্ডিং করুন। আপনি যদি আপনার পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে চান তাহলে আপনার পণ্যগুলো একই ক্যাটাগরির হলে ভাল হয়। আর আপনার যদি বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য থাকে সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পণ্যের ব্র্যান্ডিং না করে আপনার অনলাইন শপটিকে ব্র্যান্ড হিসেবে দাড় করানোর চেষ্টা করুন।

ব্র্যান্ডিং করতে হলে প্রথমেই যেটা করতে হবে সেটা হল একটি উপযুক্ত নাম বাছাই করা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করে থাকেন। আপনার কোম্পানির নামটি অবশ্যই আপনার পণ্য বা সেবার সাথে মানাসই হতে হবে। আপনি যদি জামাকাপড় বিক্রি করার সাইটের নাম চাল-ডাল এর মত রাখেন তাহলে সেটা কখনই উপযুক্ত হবে না। আপনার কোম্পানির নাম অবশ্যই আপনার পণ্য, সেবা অথবা শপের সাথে মানানসই হতে হবে। অন্যথায় ব্র্যান্ডিং করতে অনেক অসুবিধা হবে। সুতরাং আপনার পণ্য, সেবা বা শপের নামের সাথে মানানসই একটি নাম নির্বাচন করুন। অনেকেই আরেকটি মারাত্মক ভুল করেন নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের অনলাইন শপের মধ্যে বেশীরভাগ শপের নামই বাংলা শব্দের নাম আর তাই নতুনরাও তাদের অনলাইন শপের জন্য বাংলা নাম নির্বাচন করে। বাংলা নাম নির্বাচনের বিপক্ষে আমি নই। তবে কিছু কিছু বিজনেস এর ক্ষেত্রে বাংলা নাম কখনই মানানসই নয়। আপনি যদি দেশীয় পণ্য, হস্তশিল্প ইত্যাদি বিক্রি করেন তাহলে আমিও বলব বাংলা নাম দিতে, কারণ এক্ষেত্রে এটা প্রয়োজনীয় এবং মানানসই। কিন্তু আপনি বিক্রি করবেন খুবই বিলাসবহুল পণ্য যেমন, দামী ঘড়ি, পারফিউম, পোশাক — এই ক্ষেত্রে কোনভাবেই আপনার বাংলা নাম দেয়া উচিত হবে না আর যদি দিতেই চান তাহলে এমন বাংলা নাম নির্বাচন করুন যেটায় বিলাসী একটা ভাব আছে। এটি একটি বাস্তবতা যে উচ্চবিত্তরা সবসময়ই বিদেশী জিনিস এবং বিদেশী নাম পছন্দ করে, বিশ্বাস না হলে যাচাই করে দেখুন। আপনি যদি উচ্চবিত্তদেরকে আপনার টার্গেট কাস্টোমার হিসেবে নেন তাহলে বাংলা নাম আপনাকে তাদের থেকে দূরে ঠেলে দিবে। কারণ তারা ইউনিক জিনিস খুজেন, বিদেশী পণ্য যা সহজলভ্য নয় সেগুলো তাদের আকৃষ্ট করে, কাজেই তাদেরকে তাদের চাহিদামত সন্তুষ্ট করতে চাইলে আপনার কোম্পানির নামটাও তাদের পছন্দসই হতে হবে। যেমন নামের সাথে ইটালিয়ানি থাকলে সবাই ভাববে এটা নিশ্চই ইটালি হতে আমদানি করা পণ্য, এই নামটাই কিন্তু আপনাকে আলাদা বিশেষত্ব দিচ্ছে যা আপনাকে আপনার টার্গেট কাস্টমারের আরও কাছে নিয়ে যেতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- আপনি যেহেতু অনলাইন শপের জন্য নাম বাছাই করছেন, আপনাকে অবশ্যই এমন নাম বাছাই করতে হবে যে নামের ডোমেইন নেম খালি আছে অথবা কিনতে পারবেন। সাধারণত ডট কম এর বেশীরভাগ ডোমেইনই আপনি খালি পাবেন না, এক্ষেত্রে নামটাকে একটু পরিবরতন করে, নামের বানান পরিবরতন করে, সাথে বিডি লাগিয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। অথবা এমন নাম সিলেক্ট করতে পারেন যার নির্দিষ্ট কোন অর্থ নেই, যেটা ইউনিক, খুব পরিচিত না, সহজে উচ্চারন করা সম্ভব। এই ধরণের ইউনিক নাম ব্র্যান্ডিং এর জন্য খুবই উপযোগী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের নামেই ব্র্যান্ডিং করা হয় বিশেষ করে ইউরোপের ফ্যাশন সেক্টরের ব্র্যান্ড এর নামগুলো ডিজাইনারের নাম অনুসারে হয়। যেমন, গুচি, শ্যানেল, ক্যারোলাইনা হেরেরা, টোরি বারচ, জর্জিও আরমানি, রালফ লরেন এগুলো সবগুলোই ডিজাইনারের নামানুসারে নামকরন করা হয়েছে। আবার শপ এর ব্র্যান্ডিং করতে চাইলে অর্থবোধক নাম দিতে পারেন যেমন, এক্সট্যাসি, ডিজেল ব্র্যান্ড এর মত অর্থবোধক নাম খুজে দেখতে পারেন।

নাম বাছাই করার পরের ধাপ হচ্ছে, “স্লোগান” তৈরি করা যা আপনার সেবা, মান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আপনার কাস্টোমারকে জানাবে। যেমন নাইকি ব্র্যান্ড এর স্লোগান হচ্ছে “ডু ইট”, নোকিয়া ব্র্যান্ড এর স্লোগান “কানেক্টিং পিপল”। আপনার বিজনেস এর একটা উপযুক্ত স্লোগান নির্বাচন করুন।

— মানানসই এবং আকর্ষণীয় লোগো তৈরি করুন। এমন লোগো তৈরি করুন যেটা সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। লোগো খুব বেশী জটিল হলেই আকর্ষণীয় হবে এমন কোন কথা নেই। যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে লোগো ডিজাইন করে নিন, কারণ ব্র্যান্ডিং এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে আপনার লোগো। এই লোগো যদি আকর্ষণীয় হয় তাহলে খুব সহজেই আপনি মানুষের কাছে নিজের ব্র্যান্ডকে পরিচিত করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বাইরের ব্র্যান্ড এবং এই ধাচের দেশী ব্র্যান্ডগুলোর লোগো দেখে আইডিয়া নিতে পারেন। আরেকটি ভুল অনেকেই করে থাকেন লোগো তৈরি করার ক্ষেত্রে। ইদানিং বাংলাদেশের বেশীরভাগ অনলাইন শপ এর লোগোতেই “শপিং কার্ট” এর উপস্থিতি দেখা যায়, নতুনরাও তাদের দেখাদেখি নামের সাথে শপিং কার্ট এর আইকন বসিয়ে লোগো তৈরি করে ফেলেন যা ব্র্যান্ডিং এর জন্য মোটেও উপযোগী নয়। ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের মান ও সেবার ক্ষেত্রে নিজেকে ইউনিক হিসেবে কাস্টমারের কাছে নিজেকে পরিচিত করতে চাইছেন অথচ লোগোটা বানিয়ে ফেললেন কমন একটা লোগো যা আপনার স্বতন্ত্রতা প্রকাশ করতে ব্যার্থ হবে। আমার মতে এমন কমন লোগো তৈরি করার থেকে কোন লোগো না থাকা অনেক ভাল। আপনি নিজেকে ইউনিক না করতে পারলে আপনার কাস্টমার আপনার প্রতি কখনই আকৃষ্ট হবে না কারণ বাজারে আপনার মত অনেক বিক্রেতা আছে।

— ইউনিক নাম, লোগো এবং স্লোগান তৈরি করার পর যদি সম্ভব হয় আপনার ব্র্যান্ড এর নাম বা লোগো ট্রেডমার্ক এবং রেজিস্টার্ড করে ফেলুন। যদি এখন সম্ভব না হয় তবে ভবিষ্যতে সামর্থ্য হলে করার চেষ্টা করবেন।

—কোম্পানির প্রোফাইল, ভিজিটিং কার্ড, সিল, প্যাড, রশিদ সব ক্ষেত্রেই নতুন নজরকারা ডিজাইন রাখুন যাতে সব কিছুতেই আপনার লোগো ও নাম ছড়িয়ে যায়।

অনলাইন শপের জন্য ওয়েবসাইট জরুরী। ওয়েবসাইটের ডিজাইন অবশ্যই ব্র্যান্ড হিসেবে উপযুক্ত হতে হবে। অন্যকে দেখে ডিজাইন নকল করতে যাবেন না। বাংলা নাম, শপিং কার্ট যুক্ত লোগোর মত আমাদের দেশের ওয়েবসাইটের ডিজাইনগুলোও ৯০% ক্ষেত্রে একই রকমের। ব্র্যান্ড কখন কমন বা সাধারন পর্যায়ে পরে না, তার সব কিছুই ইউনিক হয়। আপনি বাইরের দেশের ই-কমারস একটা সাইটের সাথে একটা ব্র্যান্ড এর শপিং সাইটের কোন মিল পাবেন না। যেমন, ফরেভার২১ অনলাইন শপ আর গুচির অনলাইন শপ এর মাঝে আপনি কোন মিল খুজে পাবেন না। কারণ গুচি হচ্ছে একটি ব্র্যান্ড শপ আর ফরেভার২১ একটি সাধারন ই-কমারস সাইট। তবে চেষ্টা করবেন আপনার ওয়েবসাইট যাতে আপনার কাস্টোমাররা সহজেই ব্যবহার করতে পারে। অতি জটিল অপশন কাস্টোমারের বিরক্তির কারণ হতে পারে। ডিজাইন ইউনিক হলে সেটা কাস্টোমারের মনে গেথে থাকবে এবং পরবর্তীতে সে পুনরায় আপনার সাইটে আসবে। কমন ডিজাইন হলে আপনাকে মনে রাখা কঠিন হবে।

—অবশ্যই ভাল প্যাকেজিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী যতটা সম্ভব সুন্দর এবং আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। এটা না থাকলে আপনি সস্তা ব্র্যান্ড হয়ে কোন সুফল পাবেন না। প্যাকেজিং এ আপনার কোম্পানির নাম, লোগো রাখুন এবং ওয়েবসাইটের ডিজাইনের রঙের সাথে মিলিয়ে প্যাকেজিং এর ডিজাইন করুন। এমন প্যাকেজিং ব্যাবহার করুন যা আপনার কাস্টোমার পণ্য পাবার পরে ফেলে না দেয়, অন্য কাজে ব্যাবহার করতে পারবে এমন প্যাকেজিং দিন যাতে তার মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ডিং হয়।

—অনলাইন শপের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডিং করতে চাইলে পেমেন্ট গেটওয়ে রাখুন, এর উপস্থিতি আপনার ওয়েবসাইটে এমন জায়গায় রাখুন যাতে সহজেই চোখে পরে। পেমেন্ট গেটওয়ে আপনার কাস্টোমারকে শপিং এ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিবে যা একটি ব্র্যান্ড এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

—যদি সম্ভব হয় প্রফেশনাল ডেলিভারি কোম্পানির মাধ্যমে আপনার ডেলিভারি দিন। কারণ লোকাল ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর ডেলিভারি বয়রা কাস্টোমারের কাছে চা-নাস্তা করার টাকা চায় বলে আমি অনেক প্রমান পেয়েছি। এতা আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালুকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট।

—কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস অবশ্যই ভাল রাখবেন যাতে কোন কাস্টোমারই যেন আপনার উপর কোন কারনে বিরক্ত বা অসন্তুষ্ট না হয়।

—কাস্টোমারের প্রোডাক্ট পছন্দ না হলে ভদ্রতার সাথে রিটার্নের ব্যবস্থা করুন, প্রোডাক্ট গছিয়ে দেবার চেষ্টা করবেন না, করলে ঐ কাস্টমার আর জীবনেও আপনার সাইটে আসবে না। বরং কাস্টোমার যদি রিটার্নের সাপোর্ট পায়, তাহলে পরবর্তীতে আপনার কাছ থেকে নিশ্চিন্তে শপিং করবে।

—বিশেষ বিশেষ উপলক্ষগুলোতে কাস্টমারকে ছোটখাট উপহার দেবার চেষ্টা করুন, এতে করে সে আপনার কোম্পানিকে নিজের সাথে সম্পর্কিত মনে করবে।

—ব্র্যান্ডিং করতে হলে অনেক টাকা লাগে এটি পুরোপুরি ভুল কথা। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে চেষ্টা করলে সেটাই হবে উপযুক্ত ব্র্যান্ডিং।

এছাড়াও আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো আপনি বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর কার্যক্রম অনুসরন করলে বুঝতে পারবেন।

অনলাইন ব্র্যান্ডিং বলতে আমরা আসলে কী বুঝি?

যখন আমরা ব্র্যান্ডিং করার প্রক্রিয়াতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে যুক্ত করি, তাই তখন অনলাইন ব্র্যান্ডিং হিসেবে পরিচিত হয়।

অনলাইন ব্র্যান্ডিং বলতে অনলাইনে পোর্টফোলিও, ওয়েবসাইট তৈরি, সামাজিক মাধ্যমগুলোর ব্যবহার, ব্লগিং, প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা ভিডিও ভিত্তিক প্রচারণা—সবই পড়ে। যেমন বাংলাদেশের দিকেই যদি তাকাই, বর্তমানে গেজেটগ্যাং৭ তাদের ব্র্যান্ডিং করতে ওয়েবসাইট তৈরি তো করেছেই, তার পাশাপাশি নিয়মিত তাদের পণ্যের রিভিউ লিখছে, ব্লগিং করছে, ইউটিউবে রাখছে ভিডিও। ফেসবুকেও আছে তাদের সরব উপস্থিতি। এতে যেটা হয়, তা হলো কোনো একটা পণ্যের বিষয়ে মানুষেরা খুব সহজেই জানতে পারে। অনলাইন ব্র্যান্ডিংয়ে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে এখন গুরুত্ব না দিলেও গোটা বিশ্বে নামীদামি সংস্থাগুলো, যেমন কিটক্যাট বা মাইক্রোসফট, তাদের স্বকীয়তা দেখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্র্যান্ড তৈরি করছে এবং ব্র্যান্ডের সাথে জড়িত ভ্যালুগুলোর প্রচারণা করছে। আবার একজন ব্যক্তিও যে তার নামে ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারে, তার অসংখ্য উদাহরণ আছে ইউটিউবে। এদের তৈরি করা ভিডিও আপলোড করা মাত্র হাজার হাজার মানুষ তা দেখা শুরু করে, শুধু তাদের অনলাইনে ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে। বাংলাদেশের সালমান মুক্তাদির তার একটা উদাহরণ মাত্র। যেকোনো উদ্যোগের জন্যই প্রচার-প্রচারণা জরুরি। অনলাইনে ব্র্যান্ডিং তুলনামূলকভাবে কম খরচে সেটা করতে সাহায্য করে। অনলাইন ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে শুধু যে বিশ্বস্ত ক্রেতাগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব তা না, বরং সম্ভাব্য ক্রেতাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। অনলাইনে ব্র্যান্ডিং করতে অনেক কিছুই করা যায়, যেমন কোনো একটি ব্র্যান্ডের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো বা মানুষদের জানানো, একই ধরনের পণ্যের জন্য অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে পার্থক্য তুলে ধরা, ইত্যাদি। সাধারণত অনলাইনে ব্র্যান্ডিং করতে সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয় ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া সার্ভিস বা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স—সবই অনলাইন ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ। একটা উদাহরণ হলো বাংলাদেশে বর্তমানে সূর্যরাজ্য অনলাইনে কেনাকাটা বিষয়ক সার্ভিস দিচ্ছে, দিচ্ছে কাস্টমার সাপোর্ট। এভাবে তারা তাদের একটা ব্র্যান্ড ইমেজ দাঁড় করিয়েছে, সবই একটি ওয়েবসাইট আর ফেসবুকে একটি পেজ ব্যবহার করার মাধ্যমে। অনেক ভালোর পাশাপাশি খারাপ কিছুও আছে। ঢাবির আইআইটি বিভাগের প্রভাষক রায়হানুর রহমান আমাকে একবার অনলাইন ব্র্যান্ডিংয়ের নেতিবাচক বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিল, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, অনলাইন ভুয়া ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বা ব্র্যান্ডের স্মারকের অপব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যত্ ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করে মানবিহীন পণ্য অনেক সময় গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ শ্রেণীর ক্রেতাদের চিহ্নিত করতে চুরি করা হচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্যাদি।’ এর পাশাপাশি আমি যোগ করতে চাই যে, স্প্যামিং, ফিশিং, অ্যাডওয়্যার ইন্সটল, স্পাইওয়্যারও ব্যবহার করে করা হচ্ছে ভুয়া রিভিউ ও বিকৃত তথ্যবহুল জনমত জরিপ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড ব্যবহারকারীদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে আর্থিকসহ অন্যান্য ক্ষতির।

মনে রাখতে হবে, অনলাইনে ব্র্যান্ডিং একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন কোনো একটি ব্র্যান্ডের সম্পর্কে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে জানানো সম্ভব, তেমনি সম্ভব কোনো একটি ছোট্ট ভুলের মাধ্যমে রাতারাতি একটি ব্র্যান্ডের সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা। সাথে অপব্যবহারের আশংকা তো আছেই। তাই প্রয়োজন অনলাইন ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে জনমনে সচেনতনতা সৃষ্টির, প্রয়োজন যথাযথ প্রয়োগের।

Created By
Crude Canvas
Appreciate

Report Abuse

If you feel that this video content violates the Adobe Terms of Use, you may report this content by filling out this quick form.

To report a Copyright Violation, please follow Section 17 in the Terms of Use.